প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তেহরান/ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে আচ্ছন্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হুমকির পর এবার পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং নিশ্চিত মৃত্যুর’ মিশন চালায়, তবে তেহরানও তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় নতুন মার্কিন স্থাপনা, বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
শনিবার (৭ মার্চ, ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক মারমুখী পোস্টে ট্রাম্প জানান, আজ ইরানে কঠোর আঘাত হানা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে নিশ্চিত ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। এর প্রেক্ষিতে সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এখন এমন সব আমেরিকান অঞ্চল ও ঘাঁটি পর্যালোচনা করছে, যা আগে লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল না।"
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শনিবার রাতেও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)। অন্যদিকে, যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থাতেই ইসরায়েলের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ইরানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক যখন তেল জাতীয়করণ করেন, তখন থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইরানের সংঘাতের শুরু। ১৯৫৩ সালে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক চিরস্থায়ী শত্রুতায় রূপ নেয়।
একই সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসও নানা বাঁক অতিক্রম করেছে। ১৯৫০-এর দশকে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির স্বাধিকার চেতনার যে উন্মেষ ঘটেছিল, তা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশ সব সময়ই ফিলিস্তিন ও মুসলিম উম্মাহর পাশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বাংলাদেশে যে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে, সেখানেও ফিলিস্তিন ও ইরানের ওপর হামলার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের শেষ এবং ২০২৬ সালের শুরুতে এসে ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু বিশ্ব রাজনীতিকে ১৯৫০-এর দশকের স্নায়ুযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ এক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ইরান সংকট নিরসনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। আজ রাত ৯টা ৩ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে ইরানে হামলার কারণ খোলাসা করে জানিয়েছে, তারা তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা চিরতরে ধ্বংস করতে চায়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই সংঘাত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি দিচ্ছে। যদি ইরান সত্যিই নতুন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে ভয়াবহ ধস নামতে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও পড়বে।
সূত্র: ১. সিএনএন (CNN) ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক রিপোর্ট।
২. ট্রুথ সোশ্যাল (Truth Social) অফিসিয়াল হ্যান্ডেল: ডোনাল্ড ট্রাম্প।
৩. আল-জাজিরা ও বাংলাদেশ প্রতিদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক (০৭ মার্চ ২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |